সাফ জয়ী নারী ফুটবলার কুষ্টিয়ার মেয়ে নিলা
সাফ জয়ী নারী ফুটবলার কুষ্টিয়ার মেয়ে নিলা
সদ্য সাফ জয়ী নারী ফুটবলার কুষ্টিয়ার মেয়ে নিলা জাতীয় দলের ডিফেন্ডার এর আক্ষেপ! কুষ্টিয়া থেকে কেউ ফোন করে শুভেচ্ছা জানায়নি। যা সত্যি কষ্টকর।
ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল
নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো জিতেছে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। যুদ্ধজয়ের পর সেই দলের সদস্যরা এখন ফিরছে আপন নীড়ে। স্ব-স্ব জেলায় সাফজয়ী ফুটবলারদের দেওয়া হয়েছে উষ্ণ সংবর্ধনা। তবে ব্যতিক্রম ঘটেছে জাতীয় দলের সদস্য কুষ্টিয়ার মেয়ে ডিফেন্ডার খেলোয়ার নিলুফা ইয়াসমিন নিলার সঙ্গে। কুষ্টিয়া থেকে তাকে কেউই ফোন করে শুভেচ্ছা জানাননি। তাতে তার কণ্ঠে আক্ষেপও ঝরে পড়েছে খানিকটা।
কুষ্টিয়ার মেয়ে নিলার লক্ষ ও তার পারিবারিক তিহাস
তিনি অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়ন হবার সময় একই আক্ষেপ প্রকাশ করেছিল, তবে তার লক্ষ ছিল একটাই দেশের লাল সবুজের পতাকাকে বিশ্ব দরবারে সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরা।’ তার এই আশা নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশের পতাকাকে বিশ্ব দরবারে সম্মানের সঙ্গে তুলেছে ধরেছে।
কুষ্টিয়া পৌরসভার বর্ধিত জুগিয়া সবজি ফার্মপাড়ায় নিলার বাড়ি। আধাপাকা টিনশেড ঘরে তার মা বাছিরন আক্তার আর ছোট বোন সুরভী আক্তারকে নিয়ে তার সংসার। দুই মেয়েই মা বাছিরনের সম্বল।
নিলুফার বয়স যখন আড়াই বছর এবং ছোট বোনের বয়স তখন মাত্র দেড় মাস ছিল তখন বিচ্ছেদ হয় মা-বাবার। তার। সে সময় যেন অথৈ সাগরে পড়ে যান তাদের মা বাছিরন আক্তার। কিন্তু দমে যাননি তিনি। কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকায় কুঠিপাড়ার চরে মায়ের বাড়িতে ওঠেন। তিনি স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি নেন। সামান্য বেতনে চলতে থাকে সংসার। এমন পরিস্থিতিতে কঠোর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দুই মেয়েকে বড় করেছেন বাছিরন। নিলুফাকে কুষ্টিয়া শহরের চাঁদ সুলতানা স্কুল থেকে এসএসসির পর কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা সরকারি কলেজে থেকে এইচএসসি পাস করান। এরপর ভর্তি হন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
নিলার মা বাছিরন বলেন
নিলার মা বাছিরন এই প্রতিবেদক বলেন, ‘আমার মেয়ে জাতীয় দলের ফুটবলার এটা এলাকার অনেকেই জানতেন না। এমনকি শহরেরও অনেকে জানত না। কিন্তু সাফ নারী ফুটবলে শিরোপা জেতার পর থেকে আমার বাড়িতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, আমাদের পৌর কাউন্সিলরসহ অনেকেই আসছেন। কিন্তু ডিসি, এসপি, এমপি, ক্রীড়া সংস্থারও কেউ আমাদের অভিনন্দন জানাতে আসেনি। যাই হোক আগে যারা নিলুফাকে নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেতেন, তাদের অনেকে ক্ষমাও চেয়েছেন।এখন’আমার সংসার চলে নিলার অর্থে।
মিডিয়া, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ এবং জেলা বাসীর সকল কে আহবান জানাচ্ছি নিলার পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং তাকে যথাযথ মর্যাদায় ভূষিত করার জন্য এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
আমাদের ক্ষমা করো বোন। আমরা তোমাকে সম্মান জানাতে পারিনি বলে,,,,।

কোন মন্তব্য নেই: